মানুষ তখন দিশেহারা হয়ে ইন্টারনেটে খোঁজে কোনো জাদুকরী সমাধান, যা দিয়ে রাতারাতি সন্তানকে আবার আগের মতো ফিরিয়ে আনা যায়।
মনস্তত্ত্ব এবং পরিবেশগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে—কৈশোরের এই পরিবর্তনগুলো কেবল অবাধ্যতা নয়। পড়াশোনার চাপ, প্রতিযোগিতার ভয় কিংবা বাস্তব দুনিয়ায় ভালোবাসার ও সম্মানের অভাব যখন তারা অনুভব করে, তখন কাচের ওই স্ক্রিনটার ভেতরকার ভিউচুয়াল দুনিয়াই তাদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে।
বাচ্চাদের এই জেদ ও আসক্তি শাসন করে বা কেড়ে নিয়ে কখনো সমাধান করা যায় না; এর জন্য প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি:
- সন্তানের ফোন জোর করে কেড়ে নেওয়ার বদলে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট তার পছন্দের কথা বা শখ নিয়ে বন্ধু হয়ে কথা বলুন, যাতে সে আপনার সাথে কথা বলতে ভয় না পায়।
- রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে পরিবারের সবার জন্য পড়ার টেবিলে বা শোবার ঘরে ফোন দূরে রাখার একটি সুস্থ বাউন্ডারি বা নিয়ম তৈরি করুন।
- ছুটির দিনে ঘরের চার দেয়াল থেকে বের করে একসাথে খোলা প্রকৃতিতে বা খেলাধুলায় সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
শাসন দিয়ে সন্তানকে দূরে ঠেলে দেবেন না; বরং তার মনের ভাষাটা বোঝার চেষ্টা করুন। ভালোবাসার সঠিক গাইডেন্সই পারে তাদের আবার বাস্তবের সবুজ মাঠে ফিরিয়ে আনতে।
