—”চোখে ঘুম আসছে না কেন, রাত পার হয়ে ভোর হয়ে যাচ্ছে?”, “অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া থেকে মুক্তির স্থায়ী উপায় কী?”, কিংবা “রাতের পর রাত ছটফট না করে গাঢ় ঘুমের কোলেিয়ে পড়ার আসল নিয়ম কী?”

সারা দিনের ধকল ও মানসিক চাপ মাথায় নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ার পরও যখন মাথার ভেতরে হাজারটা চিন্তা রোলার coasters-এর মতো ঘুরপাক খেতে থাকে, তখন ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকাতে তাকাতে দমবন্ধ করা এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বারবার পাশ পরিবর্তন করা, সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকা আর সকালের অ্যালার্মের কথা ভেবে বুক কেঁপে ওঠার এই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা শুধু শরীরকেই ক্বান্ত করে না, মানুষের মেজাজ ও কর্মক্ষমতাকেও চিরতরে ভেঙে দেয়।

আধুনিক নিদ্রাবিজ্ঞান এবং প্রাচীন জীবনদর্শনের দৃষ্টিতে দেখলে—ঘুম হলো শরীরের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক নিরাময় প্রক্রিয়া। মন যখন অতিরিক্ত উদ্বেগে বা অবচেতন আশঙ্কায় আচ্ছন্ন থাকে, তখন স্নায়ুতন্ত্র শিথিল হতে পারে না এবং শরীরও বিশ্রামের সিগন্যাল পায় না।

অনিদ্রার এই গভীর চক্র ভেঙে রাতে শান্তির ঘুম ফিরিয়ে আনার জন্য কিছু বাস্তবসম্মত নিয়ম মেনে চলা দরকার:

  • বিছানায় যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে সমস্ত মোবাইল, ল্যাপটপ বা নীল আলোর স্ক্রিন থেকে নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করুন; স্ক্রিনের আলো মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়।
  • শোবার ঘরের পরিবেশ হালকা, অন্ধকার ও কোলাহলমুক্ত রাখুন এবং ঘুমানোর আগে হালকা গরম জলে মুখ-হাত ধুয়ে কিংবা গভীর শ্বাস নেওয়ার প্র্যাকটিস করে মনকে শান্ত করুন।
  • বিছানায় শুয়ে সারদিনের হিসাব-নিকাশ বা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করা একদম বন্ধ করুন; কোনো কিছু মাথায় এলে একটি ডায়েরিতে লিখে রাখুন যাতে মন হালকা হয়ে যায়।

ঘুম জোর করে কেড়ে নেওয়া যায় না, তাকে প্রাকৃতিকভাবে আমন্ত্রণ জানাতে হয়। মনকে শান্ত রাখুন, রাতের ঘুম আপনার দরজায় নিজে থেকেই কড়া নাড়বে।

নিদ্রা গবেষকদের মতে, নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার গভীর ঘুম বঞ্চিত হওয়ার কারণে মানুষের কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং মানসিক অবসাদ বহুগুণ বেড়ে যায়।

রাতের পর রাত আপনাদের কি অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যায় কাটাতে হয়? ঘুম আনার জন্য আপনারা কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে মনে করেন? কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You May Also Like

ব্যবসায়ে বড় ধস, কেরিয়ারে চরম বিপর্যয় কিংবা জীবনের বহু বছরের বিনিয়োগ চোখের সামনে নিমিষে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা মানুষকে পুরোপুরি...