অফিসের বসের কাছে একজন অনুগত কর্মী, পরিবারের কাছে এক দায়িত্বশীল উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, কিংবা সন্তানের কাছে আদর্শ বাবা বা মা—এই হাজারটা রোলের পেছনে অভিনয় করতে করতে মানুষ একসময় ভুলে যায় আয়নায় দাঁড়ানো মানুষটির নিজস্ব কোনো ইচ্ছে, স্বপ্ন বা ভালো লাগা অবশিষ্ট আছে কি না। সবার সব চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে নিজের ভেতরের সত্তাটিকে তিলে তিলে বিসর্জন দেওয়ার এই অনুভূতি মানুষকে এক অদ্ভুত শূন্যতা ও মানসিক বন্দিদশায় ফেলে দেয়।
আধুনিক মনস্তত্ত্ব এবং প্রাচীন জীবনদর্শনের দৃষ্টিতে দেখলে—নিজের আত্মপরিচয় বা পরিচয় হারিয়ে ফেলার এই সংকট (Identity Crisis) মানুষের ভেতরের এক গভীর জাগরণের সংকেত। এর মানে হলো আপনার মন আর গতানুগতিক যান্ত্রিক রুটিন বা অন্যের মাপে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না।
জীবনের এই অস্তিত্বের সংকট কাটিয়ে নিজের আসল সত্তা ও আত্মসম্মান ফিরিয়ে আনার জন্য কিছু বাস্তবসম্মত নিয়ম মেনে চলা দরকার:
- অন্যের প্রত্যাশা বা অনুমোদনের ওপর নিজের সুখ ও আত্মমর্যাদাকে সম্পূর্ণ নির্ভর করা আজই বন্ধ করুন; নিজের ভালো লাগাকে মূল্যায়ন করতে শিখুন।
- প্রতিদিনের অন্তহীন দায়িত্বের ভিড় থেকে কিছুটা সময় আলাদা করে এমন কোনো সৃজনশীল কাজ বা শখের চর্চায় সময় দিন যা কেবল আপনার নিজের জন্য।
- নিজের অতীতের ফেলে আসা স্বপ্ন এবং বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য তৈরি করে নিজের একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন মানসিক সীমানা বা বাউন্ডারি তৈরি করুন।
আপনি সবার দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমেই কেবল সীমাবদ্ধ নন; আপনার নিজের একটি সুন্দর ও স্বতন্ত্র অস্তিত্ব রয়েছে। নিজেকে নতুন করে চেনার এই যাত্রায় নিজের হাত শক্ত করে ধরুন।
মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ জীবনের বিভিন্ন সামাজিক চাপে নিজের ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও আসল পরিচয় হারিয়ে এক ধরণের মানসিক শূন্যতায় ভুগে থাকেন।
সবার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনারা কি কখনো নিজের আসল পরিচয় বা স্বপ্ন হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি পেয়েছেন? সেই শূন্যতা কাটাতে আপনারা কী করেন? কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।
