বাইরে থেকে সুস্থ মানুষের ভিড়ে নিজের শরীরের ভেতরের লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন একটি অভিজ্ঞতা। গ্যাস্ট্রিক, ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন, বাতের ব্যথা কিংবা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার কারণে যখন প্রতিদিন সকালে বিছানা ছাড়তেই গায়ে জোর পাওয়া যায় না, তখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা একপ্রকার অসম্ভব মনে হয়। ওষুধ আর ডাক্তারের চেম্বারের চক্রে ঘুরতে ঘুরতে মানুষ শুধু শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। চারপাশের মানুষকে নিজের ওপর নির্ভর করতে দেখলে নিজের চোখে অপরাধবোধ আরও বেড়ে যায়।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং প্রাচীন জীবনদর্শনের দৃষ্টিতে দেখলে—শরীর অসুস্থ হলে মনও স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু এই অসুস্থতাকে নিজের ভাগ্যের চূড়ান্ত শাস্তি বা জীবনের পরাজয় ভেবে নিলে শারীরিক কষ্ট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
অসুস্থতার এই কঠিন সময়ে নিজের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং শরীরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবন পরিচালনা করতে কিছু বাস্তবসম্মত নিয়ম মেনে চলা দরকার:
- নিজের অসুস্থতার জন্য নিজেকে বা নিজের শরীরকে দোষারোপ করা বন্ধ করুন; শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার যে আকুতি প্রকৃতি জানাচ্ছে, তা সম্মান করতে শিখুন।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় বা অন্য জায়গায় অলৌকিক কোনো ম্যাজিক ওষুধ বা রাতারাতি রোগ সারানোর ভুয়া বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে নিজের স্বাস্থ্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবেন না।
- আপনার শারীরিক সক্ষমতার সীমা মেনে নিয়ে ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করুন এবং প্রতিদিন নিজের সাথে লড়াই না করে শরীরের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলুন।
অসুস্থতা জীবনের একটা কঠিন অধ্যায় মাত্র, পুরো জীবনটা নয়। যতটুকুই শক্তি আছে, সেটুকুকে সাথে নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার নামই আসল লড়াই।
দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতা বা দুর্বলতার সময় আপনারা নিজেদের মনকে শক্ত রাখতে এবং মানসিকভাবে ভালো থাকতে কী করেন? কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।