—”কাজের চাপ সামলাতে সামলাতে শরীর ও মন আর চলছে না—কী করব?”, “বার্নআউট বা চরম মানসিক অবসাদ কাটিয়ে ওঠার উপায় কী?”, কিংবা “সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করার এই ক্লান্তি দূর করব কীভাবে?”

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ল্যাপটপের স্ক্রিন, ইমেলের উত্তর, মিটিং আর টার্গেট পূরণের অবিরাম দৌড়। কাজের কোনো শেষ নেই, আর বিশ্রামেরও কোনো ফুরসত নেই। ছুটির দিনেও মাথার ভেতরে কেবল অফিসের হিসাব-নিকাশ ঘুরপাক খায়। এই একটানা যান্ত্রিক জীবনের চাপে মানুষ একসময় এমন এক জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে কোনো কাজেই আর আনন্দ বা উদ্দীপনা কাজ করে না—শরীরে শক্তি থাকে না, আর মেজাজ সবসময় খিটখিটে হয়ে থাকে।

আধুনিক মনোবিজ্ঞান এবং প্রাচীন জীবনদর্শনের দৃষ্টিতে দেখলে—মানুষ কোনো যন্ত্র নয় যে তাকে ২৪ ঘণ্টা একটูবি গতিতে চালিয়ে রাখা যাবে। বিশ্রামের সুযোগ না দিয়ে অতিরিক্ত কাজের চাপে শরীর ও মনকে নিঃশেষ করে ফেলা এক ধরণের আত্মঘাতী অবহেলা।

কাজের এই চরম অবসাদ বা বার্নআউট কাটিয়ে নিজের মানসিক ও শারীরিক শক্তি আবার ফিরিয়ে আনতে কিছু বাস্তবসম্মত নিয়ম মেনে চলা দরকার:

  • কাজের ফাঁকে নিজের জন্য ছোট্ট বিরতি বা ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ বাধ্যতামূলক করুন; নির্দিষ্ট সময়ের পর অফিস বা কাজের সমস্ত ডিভাইস থেকে নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখুন।
  • নিজেকে প্রমাণের ইঁদুর দৌড় থেকে একটু বিরতি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট নিজের শরীর ও পছন্দের কোনো শখ বা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটান।
  • আপনার শারীরিক ক্ষমতার সীমানা বুঝতে শিখুন; সব কাজ একা নিখুঁতভাবে করার অতিরিক্ত চাপ বা পারফেকশনিজম আজই ছাড়ুন।

কাজ জীবনের একটা অংশ মাত্র, পুরো জীবনটাই কাজ নয়। নিজের শরীর ও মন ভালো থাকলে তবেই সফলতা অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আপনাদের কি কাজের চাপে কখনো চরম বার্নআউট বা ক্লান্তি অনুভব হয়েছে? এই মানসিক অবসাদ কাটাতে আপনারা কোন উপায়টি অবলম্বন করেন? কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You May Also Like

ব্যবসায়ে বড় ধস, কেরিয়ারে চরম বিপর্যয় কিংবা জীবনের বহু বছরের বিনিয়োগ চোখের সামনে নিমিষে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা মানুষকে পুরোপুরি...