সকাল হলে ল্যাপটপ আর মেট্রোর তাড়া, অফিস শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে আসার পর নিজের মতো করে একটু জিরিয়ে নেওয়ার তাড়া—এই যান্ত্রিক শহরের দৌড়ে অনেক সময় ঘরের কোণে বসে থাকা চশমাধারী মুখটার দিকে ঠিকমতো তাকানোর ফুরসতও আর হয়ে ওঠে না। যাঁদের হাত ধরে একদিন এই পৃথিবীতে চলা শিখেছিলাম, আজ বার্ধক্যের কোণে এসে তাঁদের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় কেবল চার দেওয়ালের চারপাশ আর একটা রিমোট কন্ট্রোল। মুখে তাঁরা হয়তো অভিযোগ করেন না, কিন্তু তাঁদের চোখে জমে থাকা নিঃশব্দ একাকীত্ব ঘরের বাতাসকে ভারী করে তোলে।
আধুনিক মনস্তত্ত্ব এবং প্রাচীন পারিবারিক ঐতিহ্যের দৃষ্টিতে দেখলে—বৃদ্ধ বয়সে মানুষের শারীরিক শক্তির চেয়েও বেশি প্রয়োজন হয় একটু মানসিক সাহচর্য ও নির্ভরতার। ব্যস্ততা মানুষের থাকতেই পারে, কিন্তু কাজের অজুহাতে নিজের শেকড় বা মা-বাবাকে মানসিক ও আবেগীয় জায়গা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এক গভীর নৈতিক অবক্ষয়।
বয়স্ক বাবা-মার এই একাকীত্ব ও দূরত্বের ব্যবধান কমিয়ে পরিবারে আবার উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার জন্য কিছু বাস্তবসম্মত নিয়ম মেনে চলা দরকার:
- সারাদিনের ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট সমস্ত গ্যাজেট দূরে রেখে বাবা-মার মুখোমুখি বসে তাদের সাধারণ দিনটি কেমন কাটল তা মন দিয়ে শুনুন।
- ছুটির দিনগুলোতে শুধু নিজের ব্যক্তিগত বিনোদন বা আউটিংয়ে সময় না কাটিয়ে, পুরো পরিবারকে সাথে নিয়ে বয়স্কদের পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরতে যান বা সময় কাটান।
- বয়স্কদের শারীরিক বা মানসিক ছোটখাটো জেদ বা খিটখিটে স্বভাবকে অবহেলা না করে, তাঁদের বার্ধক্যের এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনকে সহানুভূতি ও ধৈর্যের সাথে গ্রহণ করুন।
যাঁরা একসময় আপনাদের শৈশবের পুরো পৃথিবীটা আগলে রেখেছিলেন, বার্ধক্যের এই নিঃসঙ্গ সময়ে তাঁদের একটুখানি সময় ও ভালোবাসা দেওয়া সন্তানের সবচেয়ে বড় নৈতিক দায়িত্ব।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শহুরে আধুনিক জীবনে প্রায় ৬৫ শতাংশ বয়স্ক মানুষ উপযুক্ত মানসিক যোগাযোগের অভাবে ক্রনিক একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গজনিত অবসাদে ভুগে থাকেন।
