ব্যবসায়ে বড় ধস, কেরিয়ারে চরম বিপর্যয় কিংবা জীবনের বহু বছরের বিনিয়োগ চোখের সামনে নিমিষে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা মানুষকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেয়। আত্মীয়স্বজন ও চারপাশের মানুষের সমবেদনাভূপিত কটূক্তি বা উপেক্ষার দৃষ্টি যখন তীরের মতো বিঁধে, তখন মনে হয় জীবন এখানেই শেষ। নিজেকে অপরাধী ভাবতে ভাবতে মানুষ আর সামনে এগোতে পারে না।
আধুনিক মনোবিজ্ঞান এবং প্রাচীন জীবনদর্শনের দৃষ্টিতে দেখলে—ব্যর্থতা মানে জীবনের সমাপ্তি নয়, এটি মূলত বড় কোনো নতুন পাঠ নেওয়ার নিষ্ঠুর কিন্তু অনিবার্য স্কুল। যাঁরা আজ শিখরে পৌঁছেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের জীবনের পেছনেই এমন ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস রয়েছে।
শূন্য থেকে জীবনকে আবার নতুন করে গড়ে তোলার জন্য কিছু বাস্তবসম্মত নিয়ম মেনে চলা দরকার:
- অতীতে যা হারিয়ে গেছে বা যত বড় ক্ষতি হয়েছে, তার হিসাব কষে নিজেকে প্রতিনিয়ত শাস্তি দেওয়া আজই বন্ধ করুন; অতীত পাল্টানোর ক্ষমতা কারও নেই, কিন্তু ভবিষ্যৎ গড়ার চাবিকাঠি আপনার হাতেই রয়েছে।
- সমাজের মানুষের বিচার বা ট্রোলের ভয়ে গুটিয়ে না থেকে, ঠিক কোথায় ভুল হয়েছিল তা ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করুন এবং ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা শুরু করুন।
- আপনার এই কঠিন সময়ে যারা নিঃস্বার্থভাবে পাশে আছে, তাদের শক্তিকে পুঁজি করে নিজের আত্মবিশ্বাস আবার পুনরুদ্ধার করুন।
শূন্য থেকে শুরু করার অর্থ হলো আপনার কাছে এবার জিরো লসের ভয় ছাড়াও অমূল্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। আত্মবিশ্বাস হারাবেন না, সফলভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আসল শক্তি আপনার ভেতরেই লুকিয়ে আছে।
সফল উদ্যোক্তা ও মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ সফল মানুষ তাদের জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত একবার চরম দেউলিয়াত্ব বা ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
জীবনে বড় কোনো ধাক্কা বা ব্যর্থতার মুখোমুখি কি আপনারা কখনো হয়েছেন? সেখান থেকে আবার শূন্য থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আপনারা কী করেছিলেন? কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।
