সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত চোখের সামনে স্ক্রিনের নীল আলো আর গেমসের আওয়াজ—আজকের প্রজন্মের শিশুদের শৈশব যেন মুঠোফোনের বন্দি শালা। খাওয়ার সময় হোক বা পড়ার টেবিল, মোবাইল ছাড়া এক মুহূর্তও চলে না। একটু বকাঝকা করলেই ঘরের জিনিস ভাঙচুর বা জেদ করার প্রবণতা দেখে বাবা-মায়েরা অসহায় বোধ করেন। এই ডিজিটাল আসক্তি শুধু শিশুর পড়াশোনা বা শারীরিক স্বাস্থ্যকেই নষ্ট করছে না, বরং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুন্দর সংলাপ ও আবেগপূর্ণ বন্ধনগুলোকেও চিরতরে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
আধুনিক শিশুমনেস্তত্ত্ব এবং প্রাচীন পারিবারিক ঐতিহ্যের দৃষ্টিতে দেখলে—সন্তানের এই ডিজিটাল নির্ভরতা কেবল তাদের একক দোষ নয়; এটি অনেক সময় আমাদের ব্যস্ততার সুযোগে তাদের হাতে সহজে সময় কাটানোর মাধ্যম তুলে দেওয়ার ফল। বকাঝকা বা কড়া শাসন করে এই আসক্তি কমানো যায় না, বরং তা সন্তানকে আরও দূরে ঠেলে দেয়।
সন্তানের হাতের এই অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম কমিয়ে তাদের বাস্তব দুনিয়ার সাথে যুক্ত করার জন্য কিছু বাস্তবসম্মত নিয়ম মেনে চলা দরকার:
- সন্তানের সামনে নিজেরাও দীর্ঘক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া বা ফোনে স্ক্রোল করার অভ্যাস বন্ধ করুন; শিশুরা যা দেখে, অবচেতন মনে ঠিক সেটাই শেখে।
- দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় পুরো পরিবারের সাথে মিলে কোনো ইনডোর গেমস, বই পড়া বা বাড়ির বাইরে খোলা মাঠে হাঁটার অভ্যাস তৈরি করুন।
- হঠাৎ করে একদিনে পুরো মোবাইল কেড়ে না নিয়ে, স্ক্রিন ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা রুটিন বেঁধে দিন এবং সেই নিয়ম মেনে চললে তাদের ছোটখাটো পুরস্কৃত করুন।
স্ক্রিন কখনো মা-বাবার ভালোবাসা বা সঙ্গের বিকল্প হতে পারে না। একটু ধৈর্য আর সময় দিলে সন্তানকে এই ডিজিটাল জালের বন্দিত্ব থেকে সহজেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন টানা ২ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনটাইম শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক মনোযোগ ক্ষমতা এবং সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতাকে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।
আপনাদের পরিবারে কি ছোট সদস্যদের মোবাইল আসক্তি কমানোর জন্য কোনো বিশেষ নিয়ম বা রুটিন মেনে চলা হয়? কমেন্টে আপনাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন।
